ভাড়া বাসায় নিজের মতো করে বাসা সাজানোর সীমা আছে। দেয়ালে পেরেক ঠোকা যাবে না, মেঝেতে দাগ পড়লে বাড়িওয়ালার মুখ ভার, আর বাসা বদলের সময় সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে।
তবু ঘরে একটু সবুজ থাকলে মনটা ভালো থাকে। জানালার পাশে একটা পাতা-ভরা গাছ, ডাইনিং টেবিলে ছোট টব। এতেই ঘরটা নিজের মনে হয়।
ভালো খবর, ভাড়া বাসায় গাছ রাখা কঠিন নয়। শুধু কয়েকটা জিনিস আগে ভেবে নিতে হয়। এই লেখায় সেগুলোই সাজিয়ে দিলাম।
শুরুতে তিনটি প্রশ্ন নিজেকে করুন
গাছ কেনার আগে বাসার আলো-বাতাস ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করুন।
কোথায় আলো আসে? জানালা, বারান্দা বা ঘরের কোন কোণে কতক্ষণ আলো থাকে?
ঘরে কে কে আছে? ছোট বাচ্চা বা পোষা বিড়াল-কুকুর থাকলে কিছু গাছ বাদ দিতে হবে।
কতটুকু সময় দিতে পারবেন? গাছের পরিচর্যার জন্য কতটুকু সময় দিতে পারবেন, তা বিবেচনা করুন।
এই তিন প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করে দেবে কোন গাছ আপনার জন্য।
ঘরের আলো বোঝার সহজ উপায়
অনেক সময় গাছ মরে যায় ভুল জায়গায় রাখার কারণে। তাই আগে জায়গাটার আলো বুঝে নিন।
ছায়া দেখে আলো মাপার ঘরোয়া পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য নয়। এর বদলে একটা দিন জায়গাটা পর্যবেক্ষণ করুন:
সকাল, দুপুর আর বিকেলে একবার করে দেখুন সেখানে সরাসরি রোদ পড়ে কি না, পড়লে কতক্ষণ।
সরাসরি রোদ না পড়লেও জায়গাটা দিনের বেলা কতটা উজ্জ্বল, বাতি না জ্বালিয়ে সেখানে কাজ করা যায় কি না।
পর্দা, গ্রিল, পাশের ভবন বা বড় গাছ আলো আটকাচ্ছে কি না। জানালার দিক একটা মোটামুটি সূত্র মাত্র, আসল চিত্র বদলে দেয় এসব।
মৌসুমও ফারাক ঘটায়। শীতে সূর্য নিচু থাকে, তাই একই জানালায় আলোর পরিস্থিতি আলাদা হয়।
মোটামুটি তিন ভাগে ভাবতে পারেন:
উজ্জ্বল আলো: জানালার একেবারে পাশে, যেখানে দিনের বেশ কিছু সময় রোদ বা খুব উজ্জ্বল আলো থাকে।
মাঝারি আলো: জানালা থেকে একটু ভেতরে বা পর্দা টানা জানালার পাশে, উজ্জ্বল কিন্তু সরাসরি রোদ নেই।
কম আলো: ঘরের ভেতরের দিকে, যেখানে দিনেও আবছা।
মোবাইলের লাক্স-মিটার অ্যাপ একটা আনুমানিক ধারণা দিতে পারে, তবে ফোনভেদে ফল আলাদা হয়।
গাছই সবচেয়ে ভালো মাপকাঠি। রাখার দু-তিন সপ্তাহ পর দেখুন:
গাছ লম্বা ও ফ্যাকাশে হয়ে একদিকে ঝুঁকছে? আলো কম। জানালার কাছে সরান।
পাতায় বাদামি পোড়া দাগ বা রং জ্বলে যাচ্ছে? আলো বেশি। একটু সরিয়ে নিন বা পর্দা টানুন।
কম আলোতে বাঁচে এমন গাছ ও ভাড়া বাসা সাজানোর গাছ
সব গাছ সবার জন্য নয়। নিচের গাছগুলো তুলনামূলক কম যত্নে বেঁচে থাকে। পানির কলামে যা লেখা, সব ক্ষেত্রেই আসল নিয়ম মাটি দেখে পানি দেওয়া। বিস্তারিত নিচের "পানি দেওয়ার নিয়ম" অংশে।
গাছ | আলো | মাটি কখন শুকোতে দেবেন |
|---|---|---|
মানি প্ল্যান্ট (পোথোস) | কম থেকে মাঝারি | উপরের মাটি শুকালে |
স্নেক প্ল্যান্ট (সানসেভিরিয়া) | কম থেকে উজ্জ্বল | পুরো শুকালে |
জেডজেড প্ল্যান্ট | কম থেকে মাঝারি | পুরো শুকালে। পানি ছাড়া বেশ কিছুদিন সহ্য করে, বেশি পানিতে পচে |
স্পাইডার প্ল্যান্ট | মাঝারি | উপরের মাটি শুকালে |
ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা) | উজ্জ্বল | পুরো শুকালে |
তুলসী | সরাসরি রোদ লাগে। ঘরের ভেতরে কঠিন, বারান্দার জানালায় রাখুন | উপরের মাটি শুকালে, মাটি একটু আর্দ্র পছন্দ করে |
পিস লিলি | কম থেকে মাঝারি (ফুলের জন্য বেশি আলো) | উপরের মাটি শুকালে |
ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট | উজ্জ্বল | পুরো শুকালে, শীতে আরও কম |
আলো কম থাকলে মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট আর জেডজেড বেছে নিন। জানালার পাশে ভালো আলো থাকলে অ্যালোভেরা আর সাকুলেন্ট ভালো চলবে।
পোষা প্রাণী বা ছোট বাচ্চা থাকলে এই তালিকার বেশির ভাগ গাছ নিয়ে সতর্ক হতে হবে। সেই অংশ নিচে আলাদা করে দিয়েছি।
ইনডোর প্ল্যান্টের যত্ন: পানি দেওয়ার নিয়ম
ঘরের গাছ সাধারণত মরে পানির অভাবে নয়, বেশি পানিতে। মাটি সারাক্ষণ ভেজা থাকলে শিকড় পচে যায়।
মাটি দেখে পানি দিন
নির্দিষ্ট দিন ধরে নয়, মাটি দেখে সিদ্ধান্ত নিন। আঙুলের প্রথম গাঁট পর্যন্ত মাটিতে ঢুকিয়ে দেখুন। শুকনো মনে হলে (বা ওপরের টেবিলের গাছগুলোর ক্ষেত্রে পুরো শুকালে) পানি দিন। ভেজা বা ঠান্ডা লাগলে আরও অপেক্ষা করুন।
টবের তলায় ছিদ্র থাকতেই হবে
ধীরে পানি দিন, যতক্ষণ না তলার ফুটো দিয়ে বেরোয়
বেরোনো পানি সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন
সকালে দিলে ভালো। তবে মাটি শুকিয়ে গেলে সময়ের অপেক্ষা না করে দিন
মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তন
শুধু মাস বা ঋতু দেখে পানির প্রয়োজন ঠিক করা যায় না। একই মাসে একটি রোদেলা বারান্দার টব আর এসি-চালানো ঘরের টব আলাদা গতিতে শুকায়। নিচের সময়গুলো আনুমানিক, আসল সংকেত সবসময় মাটি।
সময় (আনুমানিক) | বাসার পরিবেশ | কী মনে রাখবেন |
|---|---|---|
গরম ও শুকনো সময় (সাধারণত মার্চ-মে) | রোদ কড়া, মাটি দ্রুত শুকায় | মাটি ঘন ঘন পরীক্ষা করুন। পাতা পুড়লে জানালা থেকে সরিয়ে নিন |
বর্ষা (সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বর) | বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, মাটি দেরিতে শুকায় | শুকোনোর আগে পানি দেবেন না। বাতাস চলাচল রাখুন, পচন বা ছত্রাক আছে কি না দেখুন |
শরৎ-হেমন্ত (সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর) | আবহাওয়া নরম, বাড়ন চলতে পারে | সাধারণ নিয়ম চালিয়ে যান |
শীত (সাধারণত ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) | ঠান্ডা ও শুকনো, বাড়ন ধীর | পানির চাহিদা কমে। স্নেক প্ল্যান্ট, জেডজেড ও সাকুলেন্টে আরও কম |
বাংলা ঋতুর হিসাবে গ্রীষ্ম বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ আর বর্ষা আষাঢ়-শ্রাবণ, কিন্তু ঘরের গাছের জন্য প্রকৃত আবহাওয়া, আলো আর মাটির অবস্থাই বেশি জরুরি।
পানি জমলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি
জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের জায়গা হতে পারে। তাই:
পিরিচ বা ট্রেতে পানি জমলে ফেলে দিন, কয়েক দিন ফেলে রাখবেন না
বোতল বা গ্লাসে রাখা মানি প্ল্যান্টের পানি প্রতি দু-তিন দিনে বদলান, পাত্রের গা ঘষে পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে মাটিতে লাগিয়ে দিন
বর্ষায় বা বৃষ্টির পর বারান্দায় টবের নিচে জমা পানি সরিয়ে ফেলুন
মাটি আর সার
ঘরের গাছের জন্য পটিং মিক্স কিনুন। বাগানের কাদামাটি টবে জমাট বেঁধে যায়।
সাধারণ মিশ্রণ: মাটি, কোকোপিট (নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়ো) আর পচা জৈব সার। অনেক নার্সারিতে তৈরি পাওয়া যায়।
সার: গাছ ও লেবেল দেখে দিন
সারের কোনো এক নিয়ম সব গাছের জন্য খাটে না। গাছের ধরন আর সারের প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
স্নেক প্ল্যান্ট, জেডজেড, অ্যালোভেরা, ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টে সার খুব কম লাগে। ভালো পটিং মিক্সই অনেক সময় যথেষ্ট। দিলে অল্প।
মানি প্ল্যান্ট, স্পাইডার প্ল্যান্ট ও পিস লিলির বাড়ন্ত সময়ে মাঝেমধ্যে হালকা সার চলে।
প্যাকেটে মাত্রা ও পদ্ধতি যেমন লেখা আছে তেমন মানুন। নতুনদের জন্য কম মাত্রায় শুরু করা নিরাপদ।
নতুন কেনা বা নতুন টবে বসানো গাছে প্রথম কয়েক সপ্তাহ সার দেবেন না।
অসুস্থ গাছে, বা শীতে যখন বাড়ন ধীর, তখনও সার দেবেন না।
তরল সার দেওয়ার সময় মাটি শুকনো রাখবেন না।
সার বেশি হলে পাতার ডগা বাদামি হয়, মাটির ওপরে সাদা স্তর পড়তে পারে।
পাতা কী বলছে
পাতা হলুদ হয়ে ঝরছে: সাধারণত বেশি পানি। মাটি শুকোতে দিন।
পাতার ডগা বাদামি: বাতাস বেশি শুকনো, বা সার বেশি, বা পানি কম হতে পারে।
পাতা ঝুলে পড়েছে: মাটি পরীক্ষা করুন। শুকনো হলে পানি, ভেজা হলে শিকড় পচছে কি না দেখুন।
পাতায় সাদা বা কালো দাগ: পোকা বা ছত্রাক হতে পারে। আক্রান্ত পাতা সরিয়ে গাছ আলাদা করুন।
পোষা প্রাণী ও ছোট বাচ্চা থাকলে
এই তালিকার অনেক জনপ্রিয় গাছ বিড়াল, কুকুর বা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কোন গাছ খেলে কী হতে পারে:
গাছ | কী থাকে | খেলে কী হতে পারে |
|---|---|---|
মানি প্ল্যান্ট (পোথোস) | ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল | মুখ ও গলায় জ্বালা, লালা ঝরা, বমি, গিলতে অসুবিধা |
পিস লিলি | একই ধরনের ক্রিস্টাল | মুখে-গলায় জ্বালা, লালা ঝরা, বমি |
জেডজেড প্ল্যান্ট | একই ধরনের ক্রিস্টাল | মুখে জ্বালা, বমি। রসে ত্বক বা চোখে জ্বালা হতে পারে, ধরার পর হাত ধুয়ে নিন |
স্নেক প্ল্যান্ট | স্যাপোনিন | বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, লালা ঝরা |
অ্যালোভেরা | পাতার বাইরের অংশ ও হলুদ রস (ল্যাটেক্স) | প্রাণীর বমি, পাতলা পায়খানা, ঝিমুনি। ভেতরের জেল তুলনামূলক কম ক্ষতিকর |
জেড প্ল্যান্ট ও কিছু সাকুলেন্ট | নির্দিষ্ট বিষাক্ত উপাদান অজানা | বমি, ঝিমুনি, চলাফেরায় অসংলগ্নতা (বিড়ালে বেশি সংবেদনশীলতা) |
কিছু ইউফরবিয়া জাতীয় সাকুলেন্ট | জ্বালাকর সাদা রস | মুখ ও ত্বকে জ্বালা |
স্পাইডার প্ল্যান্ট বিড়াল-কুকুরের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বলে পরিচিত। তবে বেশি চিবিয়ে খেলে পেট খারাপ হতে পারে। তুলসীর ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর জন্য নির্দিষ্ট তথ্য সীমিত, সন্দেহ থাকলে পশু চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
কয়েকটা সতর্কতা:
ঝোলানো মানি প্ল্যান্ট লম্বা হয়ে নিচে নেমে আসতে পারে, তাই "নাগালের বাইরে" ভেবে রাখা জায়গাও নিরাপদ নয়।
বাচ্চাকে শেখান, গাছের কোনো অংশ মুখে দিতে নেই।
গাছের নাম (সম্ভব হলে ইংরেজি নাম) মনে রাখুন বা টবের গায়ে লিখে রাখুন। দুর্ঘটনায় চিকিৎসককে নির্দিষ্ট নাম বলতে পারলে সুবিধা হয়।
কেউ কিছু চিবিয়ে ফেললে বা অসুস্থ হলে দেরি না করে চিকিৎসক বা পশু চিকিৎসকের কাছে যান। শিশুর শ্বাসকষ্ট, গলা ফোলা বা মুখে তীব্র জ্বালা হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
নিশ্চিত না হলে গাছ কেনার সময় নার্সারিতে গাছের নাম জিজ্ঞেস করে নিন।
ভাড়া বাসার জন্য ব্যবহারিক বুদ্ধি
দেয়ালে ছিদ্র না করেই গাছ রাখুন
তাক বা স্ট্যান্ড: মেঝে বা জানালার ধারে রাখা যায় এমন ছোট স্ট্যান্ড কিনুন
জানালার সিল: চওড়া হলে সেখানেই টব বসান
কার্টেন রডে হালকা টব ঝোলানো যায়, তবে ভারী টব নয়। দেয়াল বা রড ওজন বহন করতে না পারলে পড়ে গিয়ে ক্ষতি হতে পারে
বইয়ের তাক, টিভি ক্যাবিনেট বা ডাইনিং টেবিলে ছোট টব বসান
মেঝে ও জানালা বাঁচান
টবের নিচে পিরিচ, কর্ক ম্যাট বা প্লাস্টিকের ট্রে দিন। কাঠের মেঝে বা টাইলসে পানির দাগ তোলা কঠিন
ভেজা টব সরাসরি কাঠের ওপর রাখবেন না
হালকা, বহনযোগ্য টব নিন
বাসা বদলের কথা ভেবে প্লাস্টিক বা হালকা সিরামিকের টব নিন। ভারী মাটির বা কংক্রিটের টব বহন করা ঝামেলা।
বারান্দায় সতর্ক থাকুন
রেলিংয়ের ওপর টব রাখবেন না। উঁচু ভবনে টব পড়লে নিচের কারও বড় ক্ষতি হতে পারে
ঝড়ো বাতাসে হালকা টব উল্টে যেতে পারে। চওড়া তলার বা ভারী টব ব্যবহার করুন
বাড়িওয়ালা ও ভবনের নিয়ম
ছোট টবের জন্য আলাদা অনুমতি লাগবে কি না, তা বাড়িওয়ালা বা ভবনের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই ধরে না নিয়ে:
ভাড়াচুক্তি ও ভবনের নিয়ম একবার পড়ে দেখুন, টব বা বারান্দা নিয়ে কিছু বলা আছে কি না
বারান্দার গ্রিল, রেলিং, ছাদ বা কমন এলাকা ব্যবহার করতে চাইলে, কিংবা অনেক টব রাখতে চাইলে আগে জানিয়ে নিন
জানানো ও সম্মতি লিখিতভাবে বা মেসেজে থাকলে ভালো, পরে বাসা ছাড়ার সময় ঝামেলা কমে
ভাড়া বাসার গাছ কোথায় কিনবেন, কত দাম
গাছের দাম আকার, জাত, নার্সারি, শহর আর মৌসুমভেদে অনেক বদলায়। নিচের অঙ্কগুলো সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপন ও প্রতিবেদন থেকে পাওয়া মোটামুটি ধারণা, কেনার আগে দুটো দোকানে জিজ্ঞেস করে নিন।
গাছ | আনুমানিক দাম |
|---|---|
মানি প্ল্যান্ট | প্রায় ১০০-৩০০ টাকা |
স্নেক প্ল্যান্ট | ছোট চারা ৫০ টাকা থেকে। টবসহ মাঝারি আকারে ২৫০-৭৫০ টাকা |
স্পাইডার প্ল্যান্ট | ছোট চারা সস্তা। মাঝারি আকারে ২৫০-৭৫০ টাকার মধ্যে |
জেডজেড প্ল্যান্ট | আকারভেদে ১৫০-১,৫০০ টাকা। বড়গুলো বেশি |
অ্যালোভেরা | ছোট চারা ৫০ টাকার মতো (টব ছাড়া) |
তুলসী, পিস লিলি আর সাকুলেন্টের দাম আকার ও দোকানভেদে এত আলাদা যে নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা কঠিন।
গাছের চেয়ে অনেক সময় টব, পটিং মিক্স ও সারের খরচ বেশি পড়ে। এক নার্সারির বিক্রেতা বলেছেন, ৫০ টাকার ছোট গাছে টবসহ আরও ১০০ টাকা আর সারে ৫০ টাকা যোগ হয়। তিনটি ছোট গাছ, হালকা টব ও পটিং মিক্স মিলিয়ে হাজার-দেড় হাজার টাকার মধ্যে শুরু করা সম্ভব, তবে আকার ও দোকানভেদে অঙ্ক বদলাবে।
কোথায় পাবেন:
আপনার শহরের স্থানীয় নার্সারি। ঢাকায় মোহাম্মদপুর ও বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে অনেক নার্সারি আছে
অনলাইন মার্কেটপ্লেস (যেমন ওথোবা, বিক্রয়)। কিনে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অগ্রিম টাকা না দেওয়াই নিরাপদ
বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছ থেকে কাটিং, মানি প্ল্যান্ট আর স্পাইডার প্ল্যান্টে প্রায় বিনা খরচে শুরু করা যায়
কেনার সময় দেখুন পাতা সতেজ কি না, পোকা বা দাগ আছে কি না, মাটি পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে কি না।
বাসা বদলের সময় গাছের কী হবে
ভাড়া বাসায় বাসা বদল সময়ের ব্যাপার। আগে থেকে ভাবুন।
পানির ব্যাপারে সব গাছ এক নয়। পরিবহনের আগের দিনগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মে মাটি দেখে পানি দিন। ভেজা কাদাটে মাটি ভারী আর পচনের ঝুঁকি বাড়ায়, আবার সম্পূর্ণ শুকনো মাটি পিস লিলি বা তুলসীর মতো আর্দ্রতা-পছন্দ গাছে চাপ ফেলে। স্নেক প্ল্যান্ট, জেডজেড, অ্যালোভেরা আর সাকুলেন্ট মাটি শুকনো থাকলে আলাদা করে পানির দরকার নেই।
গাছ কার্টনে বা বাক্সে সোজা করে বসিয়ে আশপাশে কাগজ গুঁজে দিন, যাতে টব নড়ে না যায়
গরম দিনে গাড়ির বন্ধ বাক্সে গাছ বেশিক্ষণ রাখবেন না
বড় গাছ নেওয়া কঠিন হলে কাটিং নিয়ে যান। মানি প্ল্যান্ট আর স্পাইডার প্ল্যান্টের চারা সহজে নতুন টবে বসে
নতুন বাসায় গিয়ে গাছকে মানিয়ে নিতে কয়েক দিন সময় দিন। পাতা একটু ঝরতে পারে, চিন্তার কিছু নেই
আজই শুরু করার ছোট চেকলিস্ট
জায়গাটার আলো দিনে তিনবার দেখেছি
২-৩টি সহজ গাছ বেছেছি
তলায় ফুটোওয়ালা হালকা টব ও পিরিচ কিনেছি
পোষা প্রাণী বা বাচ্চা থাকলে গাছের বিষাক্ততা দেখে নিয়েছি
চুক্তি ও ভবনের নিয়ম পড়েছি, বারান্দা ব্যবহার করলে জানিয়েছি
সপ্তাহে একদিন গাছ দেখার সময় ঠিক করেছি
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
একদম আলো না এলে কি গাছ রাখা যাবে?
সম্পূর্ণ অন্ধকারে গাছ বেঁচে থাকতে পারে না। কম আলোর ঘরে স্নেক প্ল্যান্ট, জেডজেড বা মানি প্ল্যান্ট চলতে পারে, তবে বাড়ন ধীর হবে। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে গাছকে জানালার কাছে এনে রাখুন।
প্লাস্টিকের নাকি মাটির টব ভালো?
মাটির টবে মাটি দ্রুত শুকায়, তাই বেশি পানি দেওয়ার ভুল কম হয়। কিন্তু সেটি ভারী ও ভঙ্গুর। প্লাস্টিক হালকা ও সস্তা, ভাড়া বাসায় বহন করা সহজ। বাসা বদলের সম্ভাবনা থাকলে প্লাস্টিক বা হালকা সিরামিক ভালো।
নতুন গাছের পাতা ঝরছে, কি খারাপ লক্ষণ?
নতুন জায়গায় এসে কয়েকটা পাতা ঝরা স্বাভাবিক হতে পারে। গাছকে কয়েক সপ্তাহ সময় দিন, জায়গা বারবার বদলাবেন না। পাতা ঝরা থামছে না, বা পচা গন্ধ পাচ্ছেন কি না, তা দেখুন।
শেষ কথা
ভাড়া বাসা অস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সেখানে কাটানো সময়টা তো সত্যি। তাতে একটা ছোট সবুজ কোণ থাকলে ঘরটা অন্যরকম লাগে।
বড় সাজসজ্জার দরকার নেই। একটা জানালা, একটা টব, আর সপ্তাহে একবার একটু সময়। প্রথম গাছটা বেঁচে গেলে আরেকটা আনতে ইচ্ছে করবে।
আপনার ঘরের প্রথম গাছ কোনটি ছিল? কমেন্টে জানান। নতুনদের কাজে লাগবে।