মাঝরাতে হঠাৎ ফোন হাসপাতালে জরুরী রক্তের প্রয়োজন। শুরু হয় ছোটাছুটি: পরিচিতজনদের কল, ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট, একের পর এক রক্তদাতা সংগঠনে যোগাযোগ। অথচ এই মুহূর্তে যাঁর রক্ত দরকার, তাঁর প্রয়োজনীয় গ্রুপের একজন দাতা হয়তো আছেন মাত্র কয়েক তলা ওপরে বা নিচেই -নিজের ভবনেই।

একটি আবাসিক ভবনে সাধারণত অনেকগুলো পরিবার একসঙ্গে বসবাস করে, আর তাঁদের মধ্যে থাকেন বিভিন্ন রক্তের গ্রুপের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরাও। এই সহজ সত্যকে কাজে লাগিয়ে যদি আগে থেকেই বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় একটি রক্তদাতা তালিকা তৈরি করে রাখা যায়, তাহলে জরুরী মুহূর্তে দাতা খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে ওঠে।

কীভাবে শুরু করবেন?

বাড়ির মালিক বা ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি চাইলে আগ্রহী ও প্রাপ্তবয়স্ক ভাড়াটিয়া-বাসিন্দাদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা তালিকা তৈরি করতে পারে। তালিকায় রাখা যেতে পারে-

  • নাম

  • রক্তের গ্রুপ

  • ফ্ল্যাট নম্বর

  • যোগাযোগের নম্বর

  • রক্তদানের উপযুক্ততা ও সম্মতির তথ্য


তবে এই তথ্য সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তির সুস্পষ্ট সম্মতি নেওয়া আবশ্যক এবং তালিকাটি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাও পুরোপুরি রক্ষা করতে হবে।


জরুরী মুহূর্তে এই তালিকার সুবিধা কোথায়?

ধরা যাক, ভবনের কোনো বাসিন্দার হঠাৎ রক্তের প্রয়োজন হলো। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি নিজের ভবনের প্রস্তুত তালিকাটিও এক নজরে যাচাই করা যায়। হয়তো দেখা যাবে, কয়েক তলার মধ্যেই এমন একজন বাসিন্দা আছেন, যিনি রক্ত দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এতে যেমন মূল্যবান সময় বাঁচে, তেমনই একই ভবনের মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়।

মনে রাখা জরুরী

রক্তদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালের নিয়মকানুন এবং রক্তদাতার শারীরিক যোগ্যতা বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু তালিকায় নাম থাকলেই যে জরুরী মুহূর্তে তিনি রক্ত দিতে পারবেন, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়, দাতার শারীরিক অবস্থা ও প্রস্তুতি সবসময় অগ্রাধিকার পাবে।


আজ থেকেই প্রস্তুতি নিন

রক্তের প্রয়োজন কখন হবে, তা আমরা কেউ জানি না। কিন্তু প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিটা আজ থেকেই নেওয়া সম্ভব।

জরুরী মুহূর্তে রক্ত খুঁজতে সময় নষ্ট নয়, শুরুটা হোক নিজের ভবন থেকেই।


Comments