আপনার কাছে পোষা প্রাণী পরিবারের একজন সদস্য, কিন্তু বাড়িওয়ালার কাছে সেটিই হতে পারে বাসা ভাড়া দেওয়ার সবচেয়ে বড় আপত্তি। কেন?
অনেক ভাড়াটিয়ার কাছেই বিড়াল, কুকুর বা অন্য কোনো পোষা প্রাণী পরিবারের অংশ। কিন্তু ভাড়া বাসায় পোষা প্রাণী রাখার বিষয়টি নিয়ে অনেক বাড়িওয়ালা শুরু থেকেই কিছুটা সতর্ক থাকেন। এর পেছনে শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়, বরং বাসার ক্ষতি, পরিচ্ছন্নতা, প্রতিবেশীদের অভিযোগসহ বেশ কিছু বাস্তব কারণ থাকতে পারে।
তাই পোষা প্রাণী নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হলে বাড়িওয়ালার দৃষ্টিভঙ্গিটাও বোঝা জরুরী।
পোষা প্রাণী দরজা, জানালা, দেয়াল, আসবাব কিংবা অন্যান্য জিনিসে আঁচড় দিতে পারে। বিশেষ করে বিড়াল বা কুকুরের নখের আঁচড়ে দরজা বা কাঠের আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাড়িওয়ালার চিন্তা থাকে ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর এসব মেরামতের খরচ কে বহন করবে?
পোষা প্রাণীর মলমূত্র ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ঘরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পশম ছড়িয়ে পড়া বা অপরিষ্কার পরিবেশও বাড়িওয়ালার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে ছোট বা আবদ্ধ বাসায় এ ধরনের সমস্যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কুকুরের ঘেউ ঘেউ, প্রাণীর চলাফেরার শব্দ কিংবা অন্য কোনো কারণে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা বিরক্ত হতে পারেন।
বাড়িওয়ালাকে তখন একদিকে ভাড়াটিয়া, অন্যদিকে অন্যান্য বাসিন্দার অভিযোগ দুটিই সামলাতে হতে পারে।
কিছু বাড়িওয়ালা পোষা প্রাণীর আচরণ নিয়ে চিন্তিত থাকেন। বিশেষ করে বাসায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা অন্য পোষা প্রাণী থাকলে তারা অতিরিক্ত সতর্ক হতে পারেন।
তাই প্রাণীটি শান্ত, প্রশিক্ষিত এবং নিয়ন্ত্রিত এ বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে বোঝানো গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক আবাসিক ভবনে পোষা প্রাণী রাখার বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকতে পারে। তাই শুধু বাড়িওয়ালা রাজি হলেই হবে না; প্রয়োজনে ভবনের ব্যবস্থাপনা বা সংশ্লিষ্ট নিয়মও জেনে নিতে হবে।
বাসা নেওয়ার আগে বাড়িওয়ালাকে পোষা প্রাণীর কথা জানিয়ে দিন। লুকিয়ে রেখে পরে জানালে সম্পর্কের শুরুতেই অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।
আপনার পোষা প্রাণী কী, কতগুলো, কতদিন ধরে আপনার সঙ্গে আছে এবং তার স্বভাব কেমন এসব পরিষ্কারভাবে বলতে পারেন।
বাড়িওয়ালার সবচেয়ে বড় চিন্তাগুলোর একটি হলো বাসার ক্ষতি ও পরিচ্ছন্নতা। তাই আপনি যদি স্পষ্টভাবে জানান যে প্রাণীটির কারণে কোনো ক্ষতি হলে তার দায়িত্ব আপনি নিবেন, তাহলে আপত্তি কমানোর সুযোগ থাকে।
নিয়মিত মলমূত্র পরিষ্কার করুন, পশম পরিষ্কার রাখুন এবং বাসায় দুর্গন্ধ তৈরি হতে দিবেন না।
পোষা প্রাণীর খাবার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখুন। এতে আপনার বাসাও পরিষ্কার থাকবে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের অসুবিধাও কম হবে।
পোষা প্রাণী আপনার কাছে যতটা প্রিয়, অন্য কারও কাছে সেটি বিরক্তির কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে রাতের বেলা শব্দ, লিফট বা সিঁড়িতে প্রাণীর আচরণ এবং কমন স্পেস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
পোষা প্রাণীর চলাচলের জায়গা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এমনভাবে রাখুন যেন দরজা, দেয়াল বা অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
বিড়াল থাকলে স্ক্র্যাচিং পোস্ট এবং কুকুর থাকলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত চলাফেরার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বাড়িওয়ালা পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি দিলে সম্ভব হলে বিষয়টি ভাড়ার চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করুন।
ভবিষ্যতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে লিখিত সম্মতি উভয় পক্ষের জন্যই সহায়ক হতে পারে।
পোষা প্রাণী থাকলে বাসা খোঁজার সময় শুরু থেকেই এই বিষয়টিকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করুন।
যে বাসাটি আপনার পছন্দ হয়েছে, সেটি দেখার আগে বা বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলার সময় জেনে নিন পোষা প্রাণী রাখা যাবে কি না।
কারণ বাসা পছন্দ করার পর যদি জানতে পারেন যে বাড়িওয়ালা পোষা প্রাণী রাখতে দিবেন না, তাহলে আপনার সময় ও পরিশ্রম দুটোই নষ্ট হতে পারে।
THE TOLET-এ বাসা খোঁজার সময়ও আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিবেচনা করে সম্ভাব্য বাসা বাছাই করতে পারেন। তবে কোনো বাসা নেওয়ার আগে পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত বাড়িওয়ালার কাছ থেকে সরাসরি নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
পোষা প্রাণী রাখা নিয়ে বাড়িওয়ালার আপত্তি থাকতেই পারে। তবে সব আপত্তির অর্থ এই নয় যে পোষা প্রাণী নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকা অসম্ভব।
বাড়িওয়ালার উদ্বেগগুলো বুঝে, আগে থেকেই বিষয়টি জানিয়ে এবং পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও বাসার ক্ষতির দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
পোষা প্রাণী আপনার পরিবারের অংশ তাই নতুন বাসা খোঁজার সময় তার জন্যও উপযুক্ত ও নিরাপদ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করুন।