বাসা দেখতে গিয়ে রুম, বারান্দা আর লোকেশন দেখে পছন্দ হয়ে গেল। কিন্তু বাসায় উঠার পর যদি দেখেন পানির চাপ কম, বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বা গ্যাসের ব্যবস্থা প্রত্যাশামতো নয়, তাহলে?
নতুন বাসা নেওয়ার সময় আমরা সাধারণত ভাড়া, রুমের সংখ্যা, লোকেশন, আলো-বাতাস এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়ে বেশি কথা বলি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়- গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া অনেক সময় বাদ পড়ে যায়। ফলাফল হিসেবে বাসায় ওঠার পর শুরু হয় নতুন ঝামেলা। তাই বাসা পছন্দ হওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে নেওয়া উচিত।
পানি শুধু আছে কি না, সেটি জানলেই যথেষ্ট নয়। জানতে হবে পানির সরবরাহ নিয়মিত ও ব্যবহার উপযোগী কি না।
বাড়িওয়ালা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন-
দিনে কতক্ষণ বা কখন পানি পাওয়া যায়?
পানির চাপ কেমন?
নিয়মিত পানির সংকট হয় কি?
বাসায় পানির নিজস্ব ব্যবস্থা আছে কি?
পানির ট্যাংক ও পাম্পের ব্যবস্থা কেমন?
গরমের সময় পানির কোনো সমস্যা হয় কি?
সম্ভব হলে বাসা দেখার সময় কল খুলে পানির চাপ পরীক্ষা করুন। শুধু কথা শুনে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাস্তবে পরিস্থিতি কেমন, সেটিও দেখুন।
বাসা নেওয়ার আগে গ্যাসের ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরী।
জেনে নিন-
বাসায় গ্যাসের সংযোগ আছে, নাকি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে?
গ্যাসের খরচ মাসিক ভাড়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত, নাকি আলাদা?
রান্নার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি?
গ্যাস ব্যবহারে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা সীমাবদ্ধতা আছে কি?
সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হলে সেটি কোথায় ও কীভাবে রাখা হবে?
রান্নাঘরের অবস্থা সরাসরি দেখে নিন। চুলা বসানোর জায়গা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং রান্নার সময় প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করুন।
বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। বিশেষ করে বাসা থেকে কাজ করেন বা নিয়মিত অনলাইনে কাজ করতে হয় এমন হলে বিদ্যুতের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
জিজ্ঞেস করতে পারেন-
বিদ্যুৎ সংযোগে নিয়মিত কোনো সমস্যা হয় কি?
আলাদা মিটার আছে কি?
বিদ্যুৎ বিল কীভাবে হিসাব করা হয়?
লোডশেডিং হলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা আছে কি?
জেনারেটর বা আইপিএস ব্যবহারের সুবিধা আছে কি?
লিফট থাকলে বিদ্যুৎ না থাকলে কী ব্যবস্থা করা হয়?
এ ছাড়া বাসার সুইচ, সকেট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থাও দেখে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনের তুলনায় সকেট কম থাকলে পরে ব্যবহারিক সমস্যায় পড়তে পারেন।
বাড়িওয়ালার কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে একই ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলুন।
যেহেতু তারা সেখানে বেশ কিছুদিন যাবৎ বসবাস করছেন তাই সমস্যাগুলো সম্পর্কে তুলনামূলক বাস্তব ধারণা দিতে পারবেন। যেমন- কোন সময়ে পানি কম পাওয়া যায়, বিদ্যুৎ গেলে পরিস্থিতি কেমন হয় বা কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা নিয়মিত দেখা দেয় কি না।
কয়েক মিনিটের এই আলোচনা আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
অনেক সময় একটি বাসা দেখতে সুন্দর, রুমও বড় এবং লোকেশনও ভালো হয়। কিন্তু দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো ঠিক না থাকলে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তাই বাসা দেখার সময় একটি ছোট চেকলিস্ট সঙ্গে রাখতে পারেন-
পানি: সরবরাহ, চাপ ও নিয়মিত প্রাপ্যতা
গ্যাস: সংযোগ বা সিলিন্ডার এবং খরচ
বিদ্যুৎ: মিটার, বিল ও বিকল্প ব্যবস্থা
অতিরিক্ত খরচ: এসব সুবিধার জন্য আলাদা কোনো চার্জ আছে কি না
নতুন বাসা নেওয়ার আগে যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করবেন, পরে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা তত কমবে।
বাসা সুন্দর কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যাবে কি না সেটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই বাসা দেখার সময় শুধু রুমের সৌন্দর্য বা ভাড়ার পরিমাণ দেখবেন না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন, সম্ভব হলে নিজে পরীক্ষা করুন এবং সবকিছু বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
একটি ভালো বাসা বেছে নেওয়ার জন্য কয়েকটি সঠিক প্রশ্নই আপনাকে ভবিষ্যতের অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে।