নিজের মতো করে ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু ভাড়া বাসায় দেয়ালে পেরেক ঠোকা, রং করা বা ড্রিল করার আগে দুবার ভাবতেই হয়। বাসা ছাড়ার সময় দেয়াল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হয়, আর মালিকের অনুমতি ছাড়া কিছু করলে জামানত ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তবে দেয়ালে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন না করেও ঘরকে সুন্দর, গোছানো ও নিজের রুচির মতো করে তোলা যায়। চলুন দেখে নিই ১০টি সহজ উপায়।

১. রিমুভেবল ওয়াল স্টিকার

ফুল, পাতা, জ্যামিতিক নকশা বা মিনিমাল ডিজাইনের স্টিকারে সাদামাটা দেয়ালও বদলে যায়। এমন স্টিকার বেছে নিন, যা সহজে খোলা যায়। আঠার দাগ বা রং উঠে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। পুরো দেয়ালে লাগানোর আগে আড়ালের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

২. ছবি না টাঙিয়ে ফ্রেম সাজান

ছবি রাখতে পেরেক লাগবেই, এমন কোনো কথা নেই। পারিবারিক ছবি বা প্রিয় শিল্পকর্মের ফ্রেম টেবিল, বুকশেলফ বা ড্রয়ারের ওপর সাজিয়ে রাখুন। বড় ফ্রেম দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখলেও দেখতে বেশ লাগে। একই রঙের কয়েকটি ফ্রেম একসঙ্গে রাখলে সাজটা আরও গোছানো দেখায়।

৩. ফেয়ারি লাইটে উষ্ণতা আনুন

নরম আলো সাধারণ ঘরকেও আরামদায়ক করে তোলে। ফেয়ারি লাইট জানালার পাশে, বিছানার হেডবোর্ডে বা বুকশেলফের চারপাশে জড়িয়ে দিতে পারেন। পেরেকের বদলে আগে থেকে থাকা হুক, আসবাবের কিনারা বা স্ট্যান্ড কাজে লাগান। আর তার ও বৈদ্যুতিক সংযোগ যেন নিরাপদ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

৪. ইনডোর গাছ রাখুন

ঘরে সবুজের ছোঁয়া আনতে দেয়ালে কিছু লাগাতে হয় না। মানিপ্ল্যান্টসহ ছোট ইনডোর গাছ টেবিল, মেঝে বা স্ট্যান্ডে রাখুন। বিভিন্ন উচ্চতার স্ট্যান্ডে কয়েকটি গাছ সাজালে ঘরের একটি কোণই সুন্দর হয়ে ওঠে। টবের নিচে ট্রে দিতে ভুলবেন না, নইলে পানি পড়ে মেঝেতে দাগ বা দেয়ালের নিচের অংশে স্যাঁতসেঁতে ভাব হতে পারে।

৫. পর্দা বদলে দিন

পর্দা ঘরের চেহারায় বড় ভূমিকা রাখে। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মানানসই পর্দা বাছলে ঘর আরও পরিপাটি লাগে। নতুন রড না বসিয়ে আগে থেকে থাকা রডটাই ব্যবহার করুন। রড না থাকলে মালিকের অনুমতি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করুন। জানালার মাপ বুঝে পর্দার দৈর্ঘ্য ও কাপড় বেছে নিলে ফল আরও ভালো হবে।

৬. ওয়াল হ্যাঙ্গিং ও ট্যাপেস্ট্রি

দেয়ালের বড় ফাঁকা অংশ ঢাকতে সুন্দর ওয়াল হ্যাঙ্গিং, কাপড়ের নকশা বা ট্যাপেস্ট্রি দারুণ কাজ করে। পেরেকের বদলে আগের হুক, রিমুভেবল হুক বা ফ্রিস্ট্যান্ডিং স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে রিমুভেবল হুকও সব দেয়ালে নিরাপদ নয়। তাই দেয়ালের রং ও পৃষ্ঠের ধরন দেখে পণ্য বাছুন।

৭. বুকশেলফ ও ছোট র‍্যাক

দেয়ালে তাক বসানোর বদলে ছোট বুকশেলফ, ফ্লোর র‍্যাক বা সরানো যায় এমন স্টোরেজ ইউনিট রাখুন। বই, শোপিস আর ছোট গাছ সুন্দরভাবে সাজানো যাবে, জিনিসপত্রও গোছানো থাকবে। ঘর ছোট হলে সরু ও উঁচু র‍্যাক ভালো। শুধু দেখে নেবেন, র‍্যাকটি যেন মজবুত থাকে এবং সহজে উল্টে না যায়।

৮. আয়নায় ঘর বড় দেখান

ছোট ঘরকে খোলামেলা দেখাতে আয়না খুব কাজের। বড় আয়না মেঝেতে দাঁড় করিয়ে রাখুন, অথবা ড্রেসিং টেবিলে সাজান। জানালার আলো যেখানে প্রতিফলিত হবে, আয়নাটা সেখানে রাখলে ঘর আরও উজ্জ্বল লাগবে। দেয়ালেই আয়না লাগাতে হলে আগে মালিকের অনুমতি নিন।

৯. রঙের সমন্বয় করুন

দেয়াল না রাঙিয়েও ঘরের চেহারা বদলানো যায়। বিছানার চাদর, কুশন, কার্পেট, টেবিলক্লথ ও পর্দার রঙে মিল রাখুন। যেমন সাদা বা হালকা রঙের দেয়ালের সঙ্গে নীল, সবুজ বা বেইজ রঙের জিনিস মানিয়ে যায় এবং ঘরটা শান্ত ও পরিপাটি দেখায়। অনেক রং একসঙ্গে না মিশিয়ে দুই-তিনটি রঙে থাকাই ভালো।

১০. আসবাবের জায়গা বদলান

ঘর সাজাতে সব সময় নতুন কিছু কিনতে হয় না। আসবাবের জায়গা পাল্টালেই অনেক সময় ঘর নতুন লাগে। বিছানা, টেবিল, সোফা বা বুকশেলফ এমনভাবে রাখুন, যেন চলাচলের জায়গা খোলা থাকে এবং ফাঁকা অংশগুলো কাজে লাগে। ফাঁকা দেয়ালের সামনে একটি সুন্দর টেবিল, গাছ বা ল্যাম্প রাখলেও সেটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

সাজানোর আগে যা মনে রাখবেন

  • কিছু লাগানোর আগে মালিকের অনুমতি লাগবে কি না, জেনে নিন।

  • রিমুভেবল হুক বা স্টিকার ব্যবহারের আগে পণ্যের নির্দেশনা পড়ুন। এগুলোও রং বা প্লাস্টারের ক্ষতি করতে পারে।

  • টেপ, আঠা বা ভারী কিছু লাগানোর আগে আড়ালের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করুন।

  • দেয়ালে আগে থেকেই স্যাঁতসেঁতে ভাব, ফাটল বা রঙের সমস্যা থাকলে ঢেকে না রেখে মালিককে জানান।

  • বাসা ছাড়ার সময় দেয়াল ও অন্যান্য অংশ পরিষ্কার করে আগের অবস্থার কাছাকাছি রেখে যান।

শেষ কথা

ভাড়া বাসা মানেই নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ নেই, তা কিন্তু নয়। একটু পরিকল্পনা থাকলে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ঘরকে সুন্দর, আরামদায়ক ও নিজের রুচির মতো করে তোলা যায়।

রিমুভেবল স্টিকার, ছবির ফ্রেম, ইনডোর গাছ, পর্দা বা রঙের মিল, ছোট ছোট বদলেই ঘরের চেহারা পাল্টে যায়। তাই নতুন কিছু কেনার আগে ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই সাজিয়ে দেখুন। খরচও কমবে, দেয়ালও অক্ষত থাকবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. পেরেক ছাড়া কি ছবি ঝোলানো যায়?

হ্যাঁ, রিমুভেবল হুক বা আঠালো হ্যাঙ্গার দিয়ে যায়। তবে এগুলো আপনার দেয়ালের ক্ষতি করে কি না, আগে একটু পরীক্ষা করে নিন। চাইলে ফ্রেম টেবিল বা বুকশেলফের ওপরও রাখতে পারেন।

২. ভাড়া বাসায় ওয়াল স্টিকার ব্যবহার কি নিরাপদ?

অনেক স্টিকারই সহজে খোলা যায়। তবে দেয়ালের রং, পৃষ্ঠের অবস্থা ও আঠার ধরনের ওপর নির্ভর করে দাগ পড়তে পারে। তাই আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন।

৩. ছোট ভাড়া বাসা সুন্দর করে সাজাব কীভাবে?

হালকা রঙের পর্দা, আয়না, ছোট ইনডোর গাছ ও পরিপাটি বিছানা ব্যবহার করুন। বহুমুখী আসবাব রাখুন আর অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে ফেলুন। ঘর অনেক বেশি খোলামেলা লাগবে।

৪. সাজানোর আগে কি বাড়িওয়ালার অনুমতি নেওয়া জরুরি?

ড্রিল করা, রং করা বা দেয়ালে স্থায়ী কিছু লাগানোর আগে অনুমতি নেওয়াই ভালো। এতে পরে ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতিপূরণের ঝামেলা এড়ানো যায়।

Comments