আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের পিতা-মাতা। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই ভাবেন আলাদা বাসা নিলে হয়তো স্বাধীনতা বাড়বে, কিন্তু আসল সুখ লুকিয়ে আছে পিতা-মাতাকে পাশে রাখার মধ্যেই। একসাথে থাকলে বাড়ির পরিবেশ হয় শান্তিপূর্ণ, সন্তানরা পায় দাদা-দাদী বা নানা-নানীর স্নেহ, আর পরিবারে আসে ভরসা ও নিরাপত্তা।

বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় অনেক ভাড়াটিয়া কেবল নিজের প্রয়োজন ভেবে সিদ্ধান্ত নেন। অথচ একটি অতিরিক্ত রুম নিয়ে নিলেই পিতা-মাতাকে সহজেই সঙ্গে রাখা যায়। এতে শুধু তাদের প্রতি দায়িত্বই পূর্ণ হয় না, বরং বাড়িটাও ভরে ওঠে হাসি-আনন্দে। বৃদ্ধাশ্রম নয়, নিজের ঘরেই বাবা-মায়ের জন্য জায়গা করে দেওয়া সবচেয়ে বড় ভালোবাসার প্রকাশ।

এখানে বাড়িওয়ালারাও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। যদি তারা উৎসাহ প্রদান করেন এবং বলেন- “যে ভাড়াটিয়া পিতা-মাতাকে সঙ্গে রাখবেন, তার জন্য ভাড়ায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে”। তাহলে বিষয়টি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ভাড়াটিয়া উৎসাহিত হবেন পিতা-মাতাকে নিয়ে থাকতে, আর বাড়িওয়ালা নিশ্চিন্ত হবেন পরিবারকেন্দ্রিক দায়িত্বশীল ভাড়াটিয়া পেয়ে।

একটি ছোট ছাড় হয়তো বাড়িওয়ালার জন্য বড় কিছু নয়, কিন্তু তা হতে পারে পরিবারকে একত্রে রাখার বড় অনুপ্রেরণা। এই ধরনের সুন্দর উদ্যোগ সমাজে অন্যরকম উদাহরণ তৈরি করবে।

তাই বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় মনে রাখুন- একটি অতিরিক্ত রুম মানেই পিতা-মাতার জন্য নিরাপদ আশ্রয়, আর একসাথে থাকার আনন্দই হলো জীবনের প্রকৃত স্বস্তি।

Comments