বাসা খোঁজার সময় অনেকেই প্রথমে বিল্ডিংয়ের বয়স দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। নতুন ভবন হলে মনে হয় সুযোগ-সুবিধা বেশি, আর পুরোনো ভবন দেখলে মনে হয় নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সমস্যা আছে।

কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

একটি পুরোনো বিল্ডিং ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে সেটি আপনার জন্য নতুন ভবনের চেয়েও আরামদায়ক হতে পারে। আবার নতুন বিল্ডিং হলেও নির্মাণমান, ব্যবস্থাপনা বা রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা থাকলে সেটি আপনার প্রত্যাশা পূরণ নাও করতে পারে।

তাই বাসা নেওয়ার সময় শুধু "বিল্ডিং কত বছরের?" এই প্রশ্নের ওপর নির্ভর না করে আরও কিছু বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।


নতুন বিল্ডিংয়ের সুবিধা কী?

নতুন ভবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আধুনিক নির্মাণ ও সুযোগ-সুবিধা। নতুন বিল্ডিংয়ে সাধারণত আধুনিক লিফট, পার্কিং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ ও অন্যান্য সুবিধা থাকার সম্ভাবনা বেশি।

অনেক নতুন ভবনের নকশাতেও আধুনিক জীবনযাত্রার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, রুমের বিন্যাস কিংবা কমন স্পেস সবকিছু তুলনামূলক আধুনিক হতে পারে।

এ ছাড়া নতুন ভবনে ওঠার পর শুরুতেই বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন কম হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

তবে নতুন ভবনের কিছু অসুবিধাও থাকতে পারে। নতুন নির্মাণ হওয়ায় আশপাশের পরিবেশ পুরোপুরি গড়ে না উঠতে পারে। ভবনের ব্যবস্থাপনা বা বাসিন্দাদের নিয়মকানুনও তখনও পুরোপুরি ঠিক নাও হতে পারে।

পুরোনো বিল্ডিংয়ের সুবিধা কী?

‘পুরোনো মানেই খারাপ’ এই ধারণাটি সবসময় সঠিক নয়।

অনেক পুরোনো ভবন বছরের পর বছর ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এসব ভবনের আশপাশে বাজার, স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, গণপরিবহনসহ প্রয়োজনীয় অনেক সুবিধা আগে থেকেই গড়ে উঠতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো পরিবেশ। পুরোনো আবাসিক এলাকায় সাধারণত গাছপালা, পরিচিত প্রতিবেশী এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই পাওয়া যায়।

কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো ভবনের ভাড়াও নতুন ভবনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে পুরোনো ভবন নেওয়ার আগে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

পুরোনো বিল্ডিং হলে যা দেখবেন:

বাসা পছন্দ হওয়ার পর শুধু রুমের সৌন্দর্য দেখেই সিদ্ধান্ত নিবেন না। ভবনের সামগ্রিক অবস্থা দেখুন।

দেয়াল ও ছাদ: দেয়ালে বড় ফাটল, স্যাঁতসেঁতে ভাব বা পানি চুইয়ে পড়ার চিহ্ন আছে কি না দেখুন।

পানি ও স্যানিটেশন: পানির চাপ, বাথরুমের অবস্থা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরীক্ষা করুন।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: পুরোনো তার, সুইচ, সকেট বা বিদ্যুৎ সংযোগে কোনো সমস্যা আছে কি না লক্ষ্য করুন।

লিফট ও জেনারেটর: ভবনে লিফট বা জেনারেটর থাকলে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিন।

নিরাপত্তা: প্রবেশপথ, গেট, সিসিটিভি ও নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা কেমন তা দেখুন।

নতুন বিল্ডিং হলেও যা যাচাই করবেন:

নতুন বিল্ডিং দেখে মুগ্ধ হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও ঠিক নয়।

নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, লিফট ও অন্যান্য সুবিধা কার্যকর আছে কি না, পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় কি না, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন এবং ভবনের ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হয় এসব বিষয় জেনে নিন।

এ ছাড়া আশপাশে নির্মাণকাজ চললে ভবিষ্যতে শব্দ, ধুলাবালি বা চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু ভবনের ভিতরের অংশ নয়, আশপাশের পরিবেশও দেখে নেওয়া জরুরী।


তাহলে কোনটি বেছে নিবেন?

-এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই।

আপনার বাজেট, প্রয়োজন, জীবনযাপন এবং পছন্দের ওপর নির্ভর করবে কোনটি আপনার জন্য ভালো।

আপনি যদি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নতুন অবকাঠামো এবং তুলনামূলক কম রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন চান, তাহলে নতুন বিল্ডিং আপনার জন্য ভালো অপশন হতে পারে।

অন্যদিকে, যদি উন্নত লোকেশন, গড়ে ওঠা পরিবেশ, পরিচিত সুযোগ-সুবিধা এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়া আপনার অগ্রাধিকার হয়, তাহলে ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা পুরোনো বিল্ডিংও হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।

তাই বাসা নেওয়ার সময় বিল্ডিংয়ের বয়স নয়, বিল্ডিংয়ের বর্তমান অবস্থা এবং আপনার প্রয়োজন দুটোকেই গুরুত্ব দিন।

শেষ কথা, ভালো বাসা মানে শুধু নতুন বিল্ডিং নয়; ভালো বাসা হলো যেখানে আপনার প্রয়োজন, বাজেট ও স্বাচ্ছন্দ্য তিনটির মধ্যে ভালো একটি ভারসাম্য থাকে।

Comments